শুক্রবার হংকং সিক্সেস ২০২৬-এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। হংকং সিক্সেস হলো আন্তর্জাতিক ছয়জনের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। দ্রুতগতির এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ক্রিকেট হংকং, চীন এবং এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অনুমোদিত।
টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক আব্বাস আফ্রিদি। ছয় ওভারে ভারতকে ৫ উইকেটে ৮৮ রানে আটকে রাখে পাকিস্তান। ভারতের হয়ে মাত্র ১১ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন শশাঙ্ক সিং। জবাবে খাজা নাফের ১২ বলে ৪১ রান এবং অধিনায়ক আব্বাস আফ্রিদির মাত্র ৮ বলে ৩৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে ৩.৫ ওভারেই ৮৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। চার উইকেটের স্বস্তিদায়ক জয় পায় দলটি।
ম্যাচ জয়ের পর পাকিস্তান দলকে অভিনন্দন জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
ভারত-পাকিস্তান যেকোনো ম্যাচই ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবে হংকং সিক্সেস এশিয়া কাপের মতো কোনো বৈশ্বিক বা মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট নয়। ফলে এই প্রতিযোগিতায় জয়ের পর একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকের এমন প্রশংসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহলোদ্দীপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এশিয়া কাপের লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে এগিয়ে রয়েছে ভারত। বিশ্বকাপেও ২০২১ সালে একটি পরাজয় ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত।
এক্সে দেওয়া পোস্টে শাহবাজ শরিফ লেখেন, ‘হংকং সিক্সেস ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দারুণ চার উইকেটের জয় পাওয়ায় আমাদের ছেলেদের অভিনন্দন! এটি ছিল ক্রিকেটের একটি ভালো ম্যাচ। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও সহায়তায় নিবেদিত প্রচেষ্টার জন্য পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি @MohsinnaqviC42 এবং তাঁর দলকেও আমি প্রশংসা জানাই।’
ম্যাচের বিবরণ অনুযায়ী, ভারতের ইনিংসের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামেন রাহুল ত্রিপাঠি ও নীতিশ রানা। প্রথম ওভারেই ১১ রান তুলে ভালো শুরু করে ভারত। দ্বিতীয় ওভারে পাকিস্তানকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মুহাম্মদ শাহজাদ। পাঁচ বলে ৯ রান করা ত্রিপাঠিকে আউট করেন তিনি।
তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন শশাঙ্ক সিং। নেমেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি। মাত্র তিন বলে ১৬ রান তুলে উইকেট হারানোর পরও ওই ওভারে ভারতকে ২২ রানে পৌঁছে দেন শশাঙ্ক।
তৃতীয় ওভারে পাকিস্তানের অধিনায়ক আব্বাস আফ্রিদি বোলিংয়ের দায়িত্ব নেন। বোলিংয়ে বৈচিত্র্য দেখিয়ে নীতিশ রানাকে চাপে রাখেন তিনি। চারটি ডট বলসহ মাত্র ১১ রান দেন আব্বাস। ইনিংসের অর্ধেক অর্থাৎ তিন ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৪৪ রান। বাকি তিন ওভারে দ্রুত রান তুলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য ছিল ভারতের।
চতুর্থ ওভারে আক্রমণ অব্যাহত রাখেন শশাঙ্ক। তিনটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারিসহ ওই ওভারে ২৪ রান তোলেন তিনি। তবে ১৪ বলে ১৯ রান নিয়ে ধুঁকতে থাকা নীতিশ রানাকে পঞ্চম ওভারে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তাঁর জায়গায় ক্রিজে আসেন রাহুল তেওয়াতিয়া।
তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তেওয়াতিয়া। আবদুল সামাদের বলে গোল্ডেন ডাক অর্থাৎ প্রথম বলেই আউট হন তিনি। পরের বলেই আরেকটি গোল্ডেন ডাকের শিকার হন ভারতের অধিনায়ক ক্রুনাল পান্ডিয়া। আবদুল ওই ওভারে চারটি ডট বলসহ মাত্র ১০ রান দেন। ফলে পাঁচ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৮ রান।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভারতের ইনিংসের হাল ধরে রাখা শশাঙ্ক শেষ ওভারের প্রথম বলেই আহমেদ দানিয়ালের শিকার হন। বাকি বল মোকাবিলার জন্য তখন ভারতের একমাত্র ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে ছিলেন টি. নটরাজন। শেষ পর্যন্ত ছয় ওভারে ৫ উইকেটে ৮৮ রান সংগ্রহ করে ভারত।
৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে পাকিস্তান। অধিনায়ক আব্বাস আফ্রিদির সঙ্গে ইনিংসের সূচনা করেন খাজা নাফে। ভারতের অধিনায়ক ক্রুনাল পান্ডিয়াকে লক্ষ্য করে টানা পাঁচটি ছক্কা হাঁকান আব্বাস। এতে প্রথম ওভারেই ৩১ রান তুলে নেয় পাকিস্তান।
পরের ওভারেও চাপ ধরে রাখে পাকিস্তান। টি. নটরাজনের করা ওভারে ২৮ রান তুলে নিয়ে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় দলটি।
ইনিংসের অর্ধেক শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ যখন ১ উইকেটে ৭৩ রান, তখন বল তুলে দেওয়া হয় শশাঙ্ক সিংয়ের হাতে। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা আব্বাস আফ্রিদিকে ৮ বলে ৩৫ রানে আউট করে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তিনি।
তবে এই উইকেটেও পাকিস্তানের রান তোলার গতি কমেনি। খাজা নাফে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন। ১২ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। অন্যদিকে ইরফান খান জয়সূচক রান তুলে পাকিস্তানকে মাত্র ৩.৫ ওভারেই ৮৯ রানে পৌঁছে দেন।
এর মধ্য দিয়ে হংকং সিক্সেস ২০২৬-এর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে চার উইকেটে হারায় দলটি।



