মৌলভীবাজারের কুলাউড়া গ্যাস স্টেশনে গ্যাস নিতে গিয়ে সিরিয়াল ও লাইনে দাঁড়িয়ে ধারাবাহিক গ্যাস নিয়ে আসেন।গ্যাস স্টেশনের গেইটের চৌকিদারদের ২০/৫০ টাকার বিনিময়ে লাইনে দাঁড়ানোদেরকে উপেক্ষা করে অন্য সিএনজিকে গ্যাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কুলাউড়া উপজেলা কিছু শ্রমিক লাইনে না দাড়িয়ে সবার আগে টাকা অথবা কুড় করে চায় গ্যাস নিতে।
এবিষয়কে কেন্দ্র করে কুলাউড়ায় জুড়ীর দুইজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক কে মারধর করেন,পরে জুড়ীতে কুলাউড়া সিএনজি চালকদের মারধর করা হয়, এবিষয় কে কেন্দ্র করে জুড়ী এবং কুলাউড়ায় তাহাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
এতে দুই উপজেলার অন্তত ২৮ জন চালক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।তাহাদের মধ্যে জুড়ীর আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন এবং কুলাউড়া উপজেলা ৮জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জুড়ীর দুই চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গতকাল দুই উপজেলায় মাইকিং করে সিএনজি গাড়ি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জুড়ীর দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিরোধের সমাধানে জন্য মৌলভীবাজার জেলার এবং দুই উপজেলার শ্রমিক নেতারা উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের গাড়িতে গ্যাস নিতে প্রতিদিন কুলাউড়ার গ্যাস স্টেশনে যেতে হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহ করতে হয় তাঁদের। তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্যাস নেওয়ার সিরিয়াল ও লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে কুলাউড়ার কয়েকজন চালকের সঙ্গে জুড়ী চালকদের বিরোধ তৈরী হয়। প্রায়ই এ নিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে জুড়ী শিশু পার্ক সিএনজি স্ট্যান্ডের এক চালক গ্যাস নিতে কুলাউড়ার গ্যাস স্টেশনে গেলে সেখানে স্থানীয় কয়েকজন চালকের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষ ও মারধরে রূপ নেয়। পরে জুড়ী বিজিবি ক্যাম্প সিএনজি স্ট্যান্ডের আরেক চালক যাত্রী নিয়ে কুলাউড়ায় গেলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব ঘটনায় জুড়ীর ১৫ থেকে ২০ জন চালক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ সময় জুড়ীর দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার জেরে পরদিন জুড়ীতে কুলাউড়ার চালকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কুলাউড়ার আরও আটজন চালক আহত হন বলে জানা গেছে। ফলে দুই উপজেলার চালকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং বিরোধ নিরসনে কুলাউড়া ও জুড়ীতে উপস্থিত হন জেলা সিএনজি পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আনোয়ার মিয়া, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল হক বকুল, জেলা দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং কুলাউড়া উপজেলা সিএনজি পরিচালনা কমিটির সাবেক সহসভাপতি আলাল মিয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা সিএনজি পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাসুক আহমদ, সহসভাপতি রহমত আলী, সহসাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ও লাইন সম্পাদক রুমেল আহমদ। আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ক্যাম্প সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি নানু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক পাবলু হাসান, শিশু পার্ক সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি মো. শহিদ মিয়াসহ বিভিন্ন সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিক।
শ্রমিক নেতারা দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিরসন, গ্যাস নেওয়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে উদ্যোগ নেন। তাঁরা মনে করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিয়ম মেনে গ্যাস সংগ্রহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।




