আগাম টমেটো চাষে লাভের আশা কটিয়াদীর কৃষকদের

সাধারণত টমেটোর মৌসুম শীতকালে। তবে মৌসুমের আগেই টমেটো বাজারজাত করে ভালো দাম পাওয়ার আশায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গ্রীষ্মকালীন আগাম টমেটো চাষ শুরু করেছেন কয়েকজন কৃষক। এবার তাঁরা প্রচলিত পদ্ধতির বদলে গ্রাফটিং (কলম) প্রযুক্তিতে উচ্চফলনশীল বারি টমেটো-৮ জাতের চাষ করছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার কটিয়াদীতে নয়জন কৃষক প্রায় দুই একর জমিতে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি খেত থেকে টমেটো সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রিও শুরু হয়েছে। আগাম হওয়ায় প্রতি কেজি টমেটো প্রায় ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন কৃষকেরা।

কৃষকেরা বলছেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে বর্ষার শেষ দিকে কাণ্ড পচা ও ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগে গাছ মারা যেতে পারে। এ কারণে রোগপ্রতিরোধী রুটস্টকের ওপর বারি টমেটো-৮ জাতের চারা গ্রাফটিং করে জমিতে লাগানো হয়েছে।

উপজেলার এক কৃষক মো. আল-আমিন ১৫ শতক জমিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি টমেটোর চারা লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে পাইকারদের কাছে প্রায় ১৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে প্রায় এক লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

খেত পরিদর্শন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনূর আলম ও মঈনুল ইসলাম বলেন, গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চাষ করায় রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কম থাকে। পাশাপাশি আগাম টমেটো বাজারে তোলা সম্ভব হওয়ায় কৃষকেরা তুলনামূলক ভালো দাম পান। কৃষকদের গ্রাফটিং প্রযুক্তি ও বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, কটিয়াদীতে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ এবারই প্রথম। প্রায় দুই একর জমিতে নয়জন কৃষক এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। আবহাওয়া ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় প্রায় দেড় লাখ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত টমেটো বিক্রি হতে পারে।

কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন আগাম টমেটো চাষ সফল হলে কটিয়াদীতে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিতে সবজি চাষের আগ্রহ বাড়বে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top