নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার ইতনা গ্রামের এক ৮০ বছরের বয়স্ক অসহায় নারী মোছা. দেলজান বেগমের স্বামীর পেনশন ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর জীবনযাপন। পরিবারের এক সদস্যের স্ত্রীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পেনশন ভাতা বন্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও পেনশন বন্ধের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেলজান বেগমের স্বামী বেদন শেখ বন বিভাগের একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী ছিলেন। তিনি ২০০২ সালে মারা যান। বেদন শেখের প্রথম স্ত্রী নুরজাহান বেগম মারা যান ১৯৬৫ সালে। প্রথম স্ত্রীর সংসারে ছিল দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। নুরজাহানের মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর বেদন শেখ দেলজান বেগমকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, বেদন শেখের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া পাঁচ সন্তান তখন নাবালক ছিল। দেলজান বেগম তাদের মায়ের স্নেহে লালন-পালনে ভূমিকা রাখেন। পরে বেদন শেখ অবসরে যান এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর প্রাপ্য পেনশন ভাতার ওপর নির্ভর করেই দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর ধরে কোনোরকমে জীবনযাপন করে আসছিলেন দেলজান বেগম।
সম্প্রতি বেদন শেখের প্রথম সংসারের ছেলে আনোয়ার হোসেন টুকুর স্ত্রী আয়শা বেগম এজি (অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল) কার্যালয়ে দেলজান বেগমের পেনশন ভাতা বন্ধের আবেদন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই আবেদনে দাবি করা হয়, বেদন শেখের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর পেনশন অবৈধভাবে দ্বিতীয় স্ত্রী ভোগ করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেলজান বেগমের পেনশন ভাতা বন্ধ হয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগীর স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাবি, প্রথম স্ত্রী নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর অনেক পরে নয়, বরং বেদন শেখের অবসর গ্রহণের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। ফলে পেনশন ভাতা নিয়ে করা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। পেনশন বন্ধের আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও পারিবারিক তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
বেদন শেখের ভাইয়ের মেয়ে অঞ্জু বেগম বলেন, “আমার চাচা পেনশনে যাওয়ার প্রায় এক বছর আগেই প্রথম চাচি নুরজাহান বেগম মারা যান। চাচা মৃত্যুর আগে দ্বিতীয় চাচি দেলজান বেগমের জন্য পেনশন ভাতার ব্যবস্থা করে যান।”
প্রতিবেশী লাবনী ও চম্পার ভাষ্যও একই রকম বলে জানা গেছে। তাঁদের মতে, দেলজান বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর পেনশন ভাতার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এদিকে দেলজান বেগমের দেবরের ছেলের স্ত্রী রনি বেগম বলেন, “আমার চাচিশাশুড়ি অত্যন্ত ভালো মানুষ। তাঁর পেনশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁর পেনশন ভাতা পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।”
ভুক্তভোগীর স্বজন ও প্রতিবেশীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন, বেদন শেখের চাকরিসংক্রান্ত নথি, অবসর গ্রহণের তারিখ, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুসনদ, পারিবারিক তথ্য এবং পেনশন-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হোক। পেনশন বন্ধের সিদ্ধান্তে কোনো ভুল বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে বিধি অনুযায়ী দেলজান বেগমের প্রাপ্য ভাতা পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।




