শঠলোকের কু-পরামর্শেই মর্মান্তিক ব্যাপারটি ঘটে গেল

যার ক্রোধ নেই সে কাপুরুষ। কাপুরুষতা মানবের নিকৃষ্টতম চারিত্রিক দোষ। কাপুরুষ ব্যক্তি সাধারণত নিবীর্য হয়ে থাকে বলে সে যেমন নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, তেমনি তার দ্বারা জগতের বিশেষ কোন কল্যাণও সাধিত হয় না। যে কোন কাজে সকলের পশ্চাতে অবস্থান করা কিংবা আত্মত্মগোপন করে থাকাই তার স্বভাব। সে ভারবাহী পশুর ন্যায় বরাবর অপরের দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে।
ক্রোধের নিয়ন্ত্রিত অবস্থা সংযম। সংযমের কল্যাণের বিবরণ বলে শেষ করা যাবে না। যে সব মানবিক গুণ পারস্পরিক সংহতি সাধন এবং শান্তি সংরক্ষণে সাহায্য করে থাকে তন্মধ্যে সংযম অন্যতম। ক্রোধ যখন সংহার মূর্তি ধারণ করে তখন সংযমই একমাত্র অস্ত্র যার সাহায্যে সাফল্যের সাথে তার মোকাবেলা করা যায়। দুনিয়াকে নিয়মের দন্ডের উপর ঘূর্ণায়মান রাখার ক্ষেত্রে সংযমের অবদান অপরিসীম।
আপনি ঘরে বসে আছেন। হঠাৎ পাশের বাড়িতে শোরগোল শুনে ছুটে গিয়ে দেখলেন দুই ভাই এবং উভয়ের সমর্থকদের মধ্যে বাড়ির ভাগাভাগি নিয়ে কুরুক্ষেত্র বেঁধে গেছে। কিছুক্ষণ এলোপাথারি লাঠালাঠি চলার পর যখন কিছু লোক ধরাশায়ী হল তখন রণে ভঙ্গ দিয়ে উভয়পক্ষই থানার পানে ধাবিত হল। শুরু হল মামলা- পাকাপোক্তভাবে দুশমনি আর টাকার শ্রাদ্ধ। উভয়পক্ষই হালের বলদ বিক্রি করল, গোলার ধান বিক্রি করল, জমি জিরাত বিক্রি করল, বউ-ঝিদের গহনা গাটি বিক্রি করল। সবকিছু খোয়ানোর পর একপক্ষ শূন্যহাতে শূন্য সংসারে ফিরে আসল। অপর পক্ষ কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে শ্রীঘরে চলে গেল। গ্রামের একটি শঠলোকের কু-পরামর্শেই এই মর্মান্তিক ব্যাপার ঘটল।
আবার আপনি যদি লাশ কাটা ঘরে গিয়ে কোন মৃত ব্যক্তির দেহ হতে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হৃদপিণ্ডের দিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকান দেখতে পাবেন অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দাগ। যা কোন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও বলতে পারবেনা। আসলে এ দাগগুলো হলো- একদিন আপনি সামান্য ব্যাপারে লোকটির জাতের প্রতি কটাক্ষ করে কথা বলেছিলেন, একদিন আপনি লোকটির জ্ঞানবুদ্ধি সম্বন্ধে অশালীন উক্তি করেছিলেন, একদিন আপনি বন্ধুবান্ধবের সামনে তাকে উপহাস করেছিলেন, একদিন চিঠিতে তার পারিবারিক বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। একদিন আপনি তার কোন দুর্বলতা তামাসাচ্ছলে লোকের কাছে জাহির করে দিয়েছিলেন, একদিন আপনি তার দিকে অপ্রসন্ন দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন, একদিন আপনি তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছিলেন। এতে লোকটি মনে কষ্ট পেয়েছে। এগুলো সেই কষ্টজাত দাগ।
আপনিতো ঘটনাস্থলেই প্রত্যেকটি ব্যাপার ভুলে গেছেন-ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। কেননা এই ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে এবং কেউই এর উপর গুরুত্ব আরোপ করে না। কিন্তু লক্ষ্যবস্তুর উপর যে তা কি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এই দাগগুলি তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
লেখকঃ ডা. বরুণ কুমার আচার্য্য।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top