শরিয়াতপুর-মাদারীপুর জিরো পয়েন্ট থেকে মোস্তফাপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার মহাসড়কের পূর্ণ মেরামত ও সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির নির্মাণকাজ নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও এবার সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান ও ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাদারীপুর-২ আসনের এমপি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদারীপুর – শরিয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের খাগদি এলাকায় পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। এসময় সড়কটির সংস্কারকাজ পরিদর্শনে গিয়ে কাজে ব্যবহৃত পাথরের মেটেরিয়াল নিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে জানা গেছে। পরে মেটেরিয়াল পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত করার পর কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় আরও অভিযোগ ওঠে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন না করেই সড়কের সংস্কারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই ও প্রকৌশলগত তদারকির ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম হয়ে থাকলে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কারকাজে নিম্নমানের বা যথাযথভাবে পরীক্ষিত নয়—এমন মেটেরিয়াল ব্যবহার করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিতে পারে। তাই কাজের প্রতিটি ধাপে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এবং প্রকৌশলীদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সড়কের সংস্কারকাজ ও ব্যবহৃত মেটেরিয়াল নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের বিষয়ে মাদারীপুর সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সব বিষয়ে সন্তোষজনক ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্হানীয় বাসিন্দা সাব্বির হোসাইন আজিজ বলেন, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে সরকারি কোটি কোটি ব্যয় হচ্ছে। তাই কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস না করে মেটেরিয়াল পরীক্ষা, নির্মাণের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আরো বলেন, ধুলা ময়লা বালির উপরে কার্পেটিনংয়ের কাজ করা হয়েছে। সড়কের পুরনো কার্পেটিং ভেঙে ভালো ভাবে কম্পাক্ট না করা হলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়ক ফুলে উঠবে এবং বড়ো বড়ো গর্তে পরিনত হবে। তাই গুনগতমান ঠিক রেখে সঠিক মেটেরিয়াল দিয়ে মহাসড়কের কাজ করার দাবিও জানান।
তবে সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্টোল টেডিং বিল্ডাস লিঃ (OTBL) এর প্রতিনিধি অভি ইসলাম বলেন, সুন্দরভাবে কাজ করতেছি। আমাদের কাজের মান আগের থেকেই ভালো। ওটিবিএল সব সময় ভালো কাজ করে।
উল্লেখ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর জিরো পয়েন্ট থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটির পুনর্নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। জেলা সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ করছে অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (টেন্ডার আইডি: ১১৭৬২৯১)।চলতি বছরের মার্চ মাসে পূর্ণ নির্মাণকাজ শুরু হলেও বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত, ফাটল ও দেবে যাওয়ার ঘটনা দেখা দিয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সড়ক বিভাগের প্রতিনিধি, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রাজনৈতিক পেশাজীবী লোকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




