দৌলতপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, পর্দা টাঙিয়ে চলছে দুই শ্রেণির ক্লাস

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও শ্রেণিকক্ষের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে বিমের রড বেরিয়ে এসেছে, কোথাও পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে চলছে ক্লাস। আবার কক্ষের অভাবে একটি শ্রেণিকক্ষের মাঝখানে পর্দা টাঙিয়ে একই সময়ে দুটি শ্রেণির পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২১৭টি। এর মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বিদ্যালয়ে এখনো নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। নব্বইয়ের দশকে নির্মিত অনেক ভবনই বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৯১ নম্বর চর আমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কক্ষবিশিষ্ট মূল ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষকরা পুরোনো একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে পাঠদান করছেন। অন্যদিকে, ৯২ নম্বর পিপুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাঙাচোরা ভবনেই চলছে ক্লাস। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সিঁড়ির কক্ষকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ১৬৫ নম্বর তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর আমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে একটি কক্ষের মাঝখানে পর্দা টাঙিয়ে দুই ভাগে ভাগ করে দুটি শ্রেণির পাঠদান চলছে। একই সময়ে দুই শিক্ষকের পড়ানোর শব্দে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া ও জুনায়েদ জানায়, একই কক্ষে দুটি ক্লাস চলায় শিক্ষকদের কথা ঠিকমতো শোনা যায় না। পাশের শ্রেণির শব্দের কারণে পড়া বুঝতেও কষ্ট হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমি খাতুন বলেন, “কক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে পর্দা টাঙিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। দুই শিক্ষকের পাঠদানের শব্দ মিশে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম। পড়ালেখা চালু রাখতে বাধ্য হয়ে একটি কক্ষকে দুই ভাগ করে পাঠদান করতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন বরাদ্দ না পেলে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হবে।
দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, “উপজেলায় প্রায় ৫০-৬০টি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হয়নি। পুরোনো ভবনগুলোর অনেকগুলো জরাজীর্ণ। বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চলছে। নব্বইয়ের দশকে নির্মিত ভবনগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, পিডিপি-৪-এর আওতায় অনেক উন্নয়নকাজ হয়েছে। পিডিপি-৫-এর কার্যক্রম শুরু হলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top