এলপিজি সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখার কার্যকর কৌশল নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অপচেষ্টা চালালে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এলপিজি গ্যাস অপারেটরদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধ বা কোনো দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে বাজারকে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না। জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো তৎপরতাই সরকার বরদাশত করবে না।
বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে দেশে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ কার্যকর রয়েছে। এই আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। জনগণের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত পণ্যের বাজারে অস্থিরতা বা সংকট তৈরির প্রবণতা দেখা দিলে প্রশাসন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
ব্যবসায়িক মতপার্থক্য নিরসনের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে লাভ-লোকসান বা কমিশন নিয়ে মতভেদ তৈরি হতে পারে। সরকার আলোচনার মাধ্যমে এসব বিরোধ সমাধানে আন্তরিক এবং অংশীজনদের বক্তব্য শুনে সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধানে পৌঁছাতে প্রস্তুত। তবে দাবি আদায়ের নামে সরবরাহ বিঘ্নিত করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ীকে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সচিব ও প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (LOAB) মহাসচিবসহ এলপি গ্যাস লিমিটেড, বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, ওমেরা ও যমুনার মতো শীর্ষস্থানীয় এলপিজি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা অংশ নেন।




