পটুয়াখালীর বাউফলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাউফল উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বিকেলে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন রোধ এবং ছাত্র-জনতার ওপর চালানো নৃশংসতার বিচার দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে জনস্রোত ও স্লোগান
বিকেলে বাউফলের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নির্দিষ্ট পয়েন্টে জড়ো হন। সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো প্রদক্ষিণ করে।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী বিক্ষুব্ধ জনতা ও ছাত্র-জনতা বিভিন্ন স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন।
তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়—
“খুনি হাসিনার আস্থানা, বাংলাদেশে হবে না”
“লগি-বৈঠার কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও”
“খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই”
“আওয়ামী লীগের আস্থানা, এই বাংলায় হবে না”
এই স্লোগানে পুরো বাউফল উপজেলা সদর ও প্রধান সড়কগুলো উত্তাল হয়ে ওঠে। সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ব্যাপক স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা যায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও বক্তাদের বক্তব্যঃ
মিছিল শেষে বাউফলের একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে স্থানীয় ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, অতীতে দেশের জনগণের ওপর যে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসররা দেশকে নিয়ে এখনো নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিঃ
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সতর্ক দৃষ্টি ও তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল ও সমাবেশ সমাপ্ত হওয়ার পর এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।




