ঝালকাঠির নলছিটিতে সুগন্ধা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান শেষে ফেরার পথে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিযানে সহযোগিতাকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার কুমারখালী-জাঙ্গালিয়া-সংলগ্ন নদী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন দলের সাতজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে একটি স্পিডবোট ও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে সুগন্ধা নদীতে অভিযান শুরু হয়। নলছিটি অংশে অভিযান শেষে ফেরার পথে ভোর ৪টা ২০ মিনিটের দিকে কুমারখালীর জাঙ্গালিয়া-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ১২টি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আসা একদল ব্যক্তি তাঁদের গতিরোধ করেন। তাঁদের হাতে রামদা ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা মৎস্য বিভাগের দলটির ওপর হামলা চালান। এ সময় জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার বিশ্বাস স্পিডবোট থেকে পড়ে আহত হন। হামলায় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আনসার সদস্য, নৌকার মাঝি ও চালকসহ সাতজন আহত হন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন—জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার বিশ্বাস, আনসার ও ভিডিপির হাবিলদার আবদুর রহিম, সিপাহি সাকিব হাসান ও সিপাহি সেলিম মিয়া, নৌকার মাঝি মো. রেজাউল করিম, চালক মো. মোস্তফা সিকদার এবং অফিস সহায়ক মো. রমজান আলী খলিফা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আমাদের একটি দল সুগন্ধা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ফিরছিল। এ সময় আমাদের দলের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মৎস্য বিভাগের সাতজন আহত হয়েছেন।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা নৌকার চালক ও মাঝিদের মারধর করেন এবং রামদা দেখিয়ে ভবিষ্যতে অভিযানে অংশ না নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। এমনকি তাঁদের কান ধরে ওঠবস করানো হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে তাঁরা মৎস্য বিভাগের অভিযানে সহযোগিতা না করেন।
ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সুগন্ধা নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে মৎস্য বিভাগ। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বন্ধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।




