​বাউফলে যুবলীগ নেতার ভাইকে সার ডিলার নিয়োগ, ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি: অভিযোগ উড়িয়ে দিল কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
 বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান যুবলীগ নেতার ভাই কাইউম হোসেন মৃধাকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
তবে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাউফল উপজেলা কৃষি বিভাগ।
​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১১ অক্টোবর) কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বাউফল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জন্য কাইউম হোসেন মৃধাসহ মোট ১৬ জনকে নতুন সার ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করা হয়।
​অভিযোগ রয়েছে, ডিলার নিয়োগ পাওয়া কাইউম হোসেন মৃধার ভাই আসাদ মৃধা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ সূর্যমনি ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
 স্থানীয়রা জানান, কাইউমের বাবা আব্দুর রব মৃধা একসময় নুরাইনপুর বাজারে সারের ব্যবসা করতেন এবং পরবর্তী সময়ে আসাদ মৃধাই সেই ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসাদ মৃধা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে তার ভাই কাইউম হোসেন মৃধা নুরাইনপুর বাজারে সারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
​কাইউম হোসেন মৃধার ডিলার নিয়োগের খবরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
 সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা ফুয়াদ হোসেন বলেন, “ভাবতে কষ্ট হয়, যাকে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, তার ভাই সূর্যমনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল।
 অতীতে এই পরিবারের হাতে এলাকার বিএনপির বহু নেতাকর্মী নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন।”
​তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “একজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ পরিবারের হাতে সারের ডিলারশিপ থাকায় সাধারণ কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে ও সময়মতো সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অনতিবিলম্বে কাইউমের এই ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ডিলার নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”
​এ বিষয়ে কাইউম হোসেন মৃধার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
​অন্যদিকে, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বা কোনো অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি প্রশাসন।
 সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘সার ডিলার নিয়োগের নিয়ম-নীতিমালা ২০২৫’ এবং ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সমন্বিত সার ব্যবস্থাপনা ২০২৬’-এর আলোকেই জেলা কমিটির মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
 প্রথম দফায় বাউফল উপজেলা থেকে ৭৩টি এবং সময়সীমা বাড়ানোর পর দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৫টি আবেদন জমা পড়ে। দুই দফায় প্রাপ্ত মোট ১০৮টি আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়।
​বাউফল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মিলন এ বিষয়ে জানান, “জেলা কমিটি থেকে আসা আবেদনগুলো উপজেলা কমিটি সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সরেজমিনে সত্যতা ও সক্ষমতা যাচাই করে পুনরায় জেলা যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে পাঠায়।
 পরবর্তীতে জেলা কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম সুপারিশ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। সেখান থেকে ইউনিয়নভিত্তিক একজন করে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
​তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “পুরো প্রক্রিয়াটি নীতিমালা মেনে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ব্যক্তি পরিচয় বা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ ছিল না।”

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top