ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রথম আট মাসে অবৈধভাবে প্রবেশ এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে ভূমধ্যসাগরের প্রধান দুটি সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে বাংলাদেশিরা শীর্ষস্থানে রয়েছেন।
ইউরোপের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের শুক্রবারের (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্রায় ৭৫ হাজার অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
প্রধান অভিবাসনপথগুলোর প্রায় সবকটিতেই এ প্রবণতা দেখা গেছে। অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে অব্যাহত সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাস্থলগুলোতে নেওয়া প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে ইউরোপের দিকে যাত্রা করা নৌকার সংখ্যা কমে আসছে বলে মনে করছে ফ্রন্টেক্স।
এই ৮ মাসে প্রায় ৭৫ হাজার অবৈধ প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। আর ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা ছিল শনাক্ত হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জাতি গোষ্ঠী।
এ দুটি পথ দিয়ে ইতালি ও স্পেনে প্রায় ৬০ শতাংশ অবৈধ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রথম আট মাসে ২৪ হাজার ২০০ এর বেশি অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম। লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপমুখী পথটি সারা বছর জুড়েই আলোচনায় ছিল। শুধু আগস্টেই এ পথে প্রায় ৩ হাজার অভিবাসী অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করেছেন। এই পথে বাংলাদেশি ছাড়াও আফগান ও সুদানি নাগরিকদের শনাক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন অভিবাসীর অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ শনাক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৫৫ শতাংশ কম। লিবিয়া থেকে এ পথে অভিবাসীরা যাত্রা শুরু করেন। এবার ইউরোপে মোট প্রবেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই লিবিয়া থেকে হয়েছে। এরপর ছিল আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া। আর এ পথে বাংলাদেশি, সোমালি ও আলজেরীয় নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় পথ ছিল একমাত্র পথ, যে পথ দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ বেড়েছে। এ পথে প্রায় ১৫ হাজার ৯০০ জন অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। আলজেরিয়া ছিল এ পথের প্রধান যাত্রাস্থল।
ফ্রন্টেক্সের মতে, সমুদ্রপথে কড়াকড়ি বাড়ায় মানব পাচারকারী মাফিয়ারা নতুন পথ ব্যবহার করছেন। মরক্কো, পশ্চিম আফ্রিকা ও মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ায় আলজেরিয়ার উপকূল থেকে অবৈধ অভিবাসীদের যাত্রা বেড়েছে।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশও গত ৮ মাসে ৪৩ শতাংশ কমেছে। এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার ৬০০ অভিবাসী ইংল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন।
ফ্রন্টেক্স জানায়, অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ কমলেও এ বছর প্রাণহানি কমেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন।
ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যান্স লেইটেন্স বলেন, অবৈধভাবে ইউরোপ প্রবেশের বেশিরভাগ পথেই অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে। তবে সীমান্তের এই শান্ত পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে। অভিবাসী কমলেই মানব পাচারকারী চক্রগুলো হারিয়ে যায় না। তারা নতুন সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।



