সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ভ্যানচালক কছিম উদ্দিন হত্যা মামলার দুই বছর পর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন ভাই আব্দুল মালেক (৪৫) ও কাকুলি (৪০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে প্রচারের আড়ালে এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানানো হয়, নিহত কছিম উদ্দিনের আপন ভাই আব্দুল মালেক পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেন। ঘটনার দিন গভীর রাতে ভাড়া করা দুই সহযোগীকে নিয়ে কছিম উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যান তারা। এ ছাড়া ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে কাকুলি নামে এক নারী কছিম উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসতে সহযোগিতা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় রায়গঞ্জ থানার একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করে। গত তিন মাস ধরে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে নিবিড় গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পাওয়া জুতার বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে একজন অপরাধীর বিষয়ে নিশ্চিত হন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
এরই ধারাবাহিকতায় টানা দুই রাত অভিযান চালিয়ে প্রথমে নিমগাছি এলাকা থেকে আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাকুলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আব্দুল মালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।




