রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মোকলেছুর রহমানের ছেলে মাইদুল ইসলাম বাবু ওই বন্ধ ইটভাটাটি ভাড়া নিয়ে কারখানা স্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানায় ম্যানকোজেব, কার্বেনডাজিম ও কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশক, গ্লাইফোসেট বা প্যারাকুয়াট গ্রুপের আগাছানাশক এবং ক্লোরপাইরিফস, ইমিডাক্লোপ্রিড ও সাইপারমেথ্রিন,
গ্রুপের বালাইনাশকের প্যাকেট সহ ৩ জিআর প্যাকেট পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপের পণ্য ‘ফেমাস এগ্রো লিমিটেড’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে প্যাকেট দেখে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া মাইদুল ইসলাম বাবু রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলার কালসারডারা সংলগ্ন জায়গায় একটি চাতালে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গো-খাদ্যে গমের ভুষির সঙ্গে ধানের ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে ‘বসুন্ধরা’ ও ‘মণ্ডল’সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করে আসছে। জব্দ করা পন্য গুলোর মধ্যে রয়েছে, কাঠের গুঁড়া, ইটের গুঁড়া, রাসায়নিক উপকরণ, চক পাউডার, রং, মোটা বালু, ফসফেট, পটাশ, সাদৃশ্য সার ফুরাডান, রং খালি প্যাকেট, পণ্য তৈরির যন্ত্রপাতি এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র, বই, লোগো ইত্যাদি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওজাতুন জান্নাত জানান, জব্দ করা পণ্য ও উপকরণের প্রকৃত অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অভিযানে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের এনডিসি, জেলা কৃষি অফিসের প্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং থানা ও পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সদস্যরা অংশ নেন।
১০ অক্টোবর, শনিবার পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ও কৃষি কর্মকর্তা সকাল ১১টায় কালসারডারা বাজারে মাইদুল ইসলাম বাবুর নকল সার তৈরীর কাঁচামাল ১১২৬ বস্তা সারের উপকরণ উদ্ধার করে গোডাউন সীলগালা করেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পীরগঞ্জ থানা। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বাদী হয়ে মাইদুল ইসলাম বাবু ও অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে ১১ অক্টোবর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে আসামীকে গ্রেফতারের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। জানা গেছে,বিপুল অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা চলছে।




