গোবরেই সম্ভাবনার হাতছানি, বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদনে স্বাবলম্বী জুড়ীর উদ্যোক্তারা

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে উদ্যোক্তারা সফল হচ্ছেন। গরুর গোবর থেকে তৈরি এ গ্যাস নিজের চুলায় ব্যবহার করছেন এবং অন্যের কাছে বিক্রি করে আর্থিক সুবিধাও পাচ্ছেন।এমনকি এই গ্যাসের বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদন করে তা বিক্রি করেও আর্থিক ভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।
জানা যায়- জুড়ীর উদ্যোক্তাগণ সামান্য পুজি বিনিয়োগ করে গবাদিপশুর গোবর ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করছেন এবং গ্যাসের বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরি করছেন। উক্ত গ্যাস নিজ গৃহে রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন এবং বিক্রিও করছেন। অপরদিকে জৈব সার নিজের কৃষি কাজে ব্যবহার করার পাশাপাশি অন্য কৃষকের নিকট বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন।
সাগরনাল ইউনিয়নের টিলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জমির উদ্দিন ২০২৫ সালের জুন মাসে বায়োগ্যাস উৎপাদন শুরু করেন। তার থেকে উৎসাহিত হয়ে একই ইউনিয়নের বরইতলী গ্রামের খসরু মিয়া ও আপ্তাব আলী, কলাবাড়ি বাজারের বদরুল ইসলাম ও আব্দুল কাদির এবং সাগরনাল গ্রামের জামালুর রশিদ, সজল শর্মা, আব্দুল করিম, লুৎফুর রহমান, মুস্তাকিম হোসেন, আব্দুল মুহিত, সাহেদ আহমদ, ও দক্ষিণ সাগরনাল গ্রামের ফখর উদ্দিন বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে উপকৃত হচ্ছেন।
জমির উদ্দিন জানান, দেড় লাখ টাকায় তিনি বায়োগ্যাস প্লান্ট শুরু করেন। নিজের গরুর খামারের গোবর ব্যবহার করেন এবং আরো গোবর ক্রয় করে আনেন। এই প্লান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাসে তিনটি চুলা জ্বলে। একটা নিজে ব্যবহার করেন এবং অন্য দুইটি চুলায় গ্যাস বিক্রি করে মাসে সাত হাজার টাকা আয় করেন।
তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৩ লাখ টাকা ঋন নিয়ে বায়োগ্যাস ও জৈব্য সার উৎপাদন শুরু করি। প্রতি মাসে ৫টন সার উৎপন্ন হয়। উপজেলা কৃষি অফিস সার গুলো কিনে নিয়ে কৃষকের মাঝে বিতরণ করেন। স্থানীয় কৃষকগণও তাদের চাহিদামত সার কিনে নেন।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, জুড়ী উপজেলায় বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন কর্মসূচী সফলতার সহিত বাস্তবায়ন হচ্ছে। সাগরনাল ইউনিয়নকে বায়োগ্যাস পল্লী ঘোষণা করা হয়েছে। এপর্যন্ত ১৩টি প্লান্ট বাস্তবায়ন হয়েছে| সেখান থেকে ৮০টি পরিবার গ্যাস ব্যবহারের সুফল ভোগ করছে। ভবিষ্যতে আরো ব্যাপক আকারে বায়োগ্যাস প্লান্ট হবে এবং মানুষ সিলিন্ডার গ্যাসের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবে। বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের জন্য যে কেউ যুব উন্নয়ন থেকে ঋন নিতে পারে। প্রথম তিন মাস কোনো কিস্তি দিতে হয় না। পরে মাত্র ২.৫০ হারে সুদসহ ২৪ কিস্তিতে ঋন পরিশোধ করা যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, পরিবেশ দূষণের এ যুগে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জৈব্য সারের বিকল্প নাই। এর মধ্যে অন্যতম কেচু সার এর জনপ্রিয়তা ও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে  উদ্যোক্তারা একই সাথে গ্যাস ও সার পাচ্ছে। যা বিক্রি করে তারা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। যে কোনো উদ্যোক্ততা এ প্লান্ট করতে চাইলে আমরা সবধরণের সহযোগিতা করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, বায়োগ্যাস অত্যন্ত উপকারী ও নবায়ন যোগ্য শক্তির উৎস্য। এ থেকে উৎপাদনকারী ও কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। বায়োগ্যাস প্লান্ট জুড়ী উপজেলায় একটি বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top