মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছেন কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির মূল দলের সভাপতি জনাব সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং মেহনতি ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তাঁর লক্ষ্য, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করা।
মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়
বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ। মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলাকেও ব্যাহত করে। তাই কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিতে চান সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক।
তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক, যুবসমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে চান। পাশাপাশি তরুণদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলা এবং তাদের জন্য ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে চান।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার
একটি শিক্ষিত সমাজই পারে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানরা যেন আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা তাঁর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর উন্নয়ন ভাবনায়।
তাঁর প্রত্যাশা, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং তরুণ প্রজন্ম শিক্ষিত, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকীকরণ
কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো যোগাযোগব্যবস্থা না থাকলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।
তাই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের চলাচলের অনুপযোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার উদ্যোগ নিতে চান সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক।
পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, প্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বর্ষা মৌসুমে মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
তাঁর উন্নয়ন ভাবনায় রয়েছে, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা, যাতে কোনো এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন অবহেলিত না থাকে।
মেহনতি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান
কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে একটি ইউনিয়নের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তিনি।
তিনি নির্বাচিত হলে অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাতে সহযোগিতা করা এবং বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পেতে যোগ্য ব্যক্তিদের সহায়তা করার উদ্যোগ নিতে চান।
এ ছাড়া দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
তাঁর প্রত্যাশা, ইউনিয়নের কোনো অসহায় মানুষ যেন প্রয়োজনের সময় জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত না হন।
স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের লক্ষ্য
একজন জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক।
তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা সহজ করা, জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে মানুষকে সহযোগিতা করা এবং এলাকার সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিতে চান।
একই সঙ্গে ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহারে নজর রাখা এবং দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যাশা তাঁর।
স্থানীয় বিরোধ-বিবাদ নিরসনে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং নারী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও তাঁর উন্নয়ন ভাবনার অংশ।
কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা
একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন।
সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর লক্ষ্য, এলাকার মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইউনিয়নকে সম্পৃক্ত করা।
তিনি মনে করেন, জনগণের সহযোগিতা, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষার প্রসার, উন্নত রাস্তাঘাট, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মেহনতি ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এগিয়ে যেতে চান বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। তবে এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের সমর্থনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ, প্রশাসনিক সহযোগিতা ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




