হাসপাতাল আছে, শয্যা আছে, কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতিও আছে। কোথাও অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত, কোথাও এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন বসানো। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এসব সুবিধার অনেকগুলোই কাজে আসছে না। ফলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেও রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। বাড়তি খরচের পাশাপাশি পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।
কিশোরগঞ্জের ৫০০ শয্যার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোথাও শয্যার তুলনায় দেড় গুণের বেশি রোগী, কোথাও দ্বিগুণেরও বেশি। আবার জনবল সংকটে বন্ধ সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার এবং গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা। কাগজে-কলমে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে তার পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না রোগীরা।
কিশোরগঞ্জের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে গড়ে ৭০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অর্থাৎ অনুমোদিত শয্যার তুলনায় প্রতিদিন গড়ে ২০০ জন বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতালটির চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১২৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৯০ জন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৬২৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪৭৫ জন। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৬০ জন দায়িত্ব পালন করছেন।
চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট। হাসপাতালটিতে ডায়ালাইসিসের চাহিদা অনুযায়ী মেশিন নেই। ছয়টি মেশিন দিয়ে তিন পালায় সেবা দিতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ রোগী ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন এবং অনেকে অপেক্ষমাণ থাকছেন। চাহিদা পূরণে অন্তত ২০টি মেশিন প্রয়োজন। তবে ৫০টি মেশিন স্থাপনের উপযোগী লাইন রয়েছে।
মর্গের অবস্থাও উদ্বেগজনক। কলেজের অধীন মর্গের ১২টি ফ্রিজারের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র একটি, বাকি ১১টি নষ্ট। ফলে একসঙ্গে বেশি লাশ এলে সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে এবং অনেক লাশে পচন ধরছে। এতে ফরেনসিক সার্জনদের ময়নাতদন্তের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের ৪০টি এসি কেবিনের ২০টির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নষ্ট। ফলে কেবিন ভাড়া বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা খরচ করেও রোগীদের গরমে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। রোগীর চাপ সামলানো, ডায়ালাইসিসের সক্ষমতা বাড়ানো, মর্গের ফ্রিজার সচল করা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ-সব মিলিয়ে হাসপাতালটির সেবার মান ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অর্থাৎ অনুমোদিত শয্যার তুলনায় প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালটির চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৬৮টি। কর্মরত রয়েছেন ৫৩ জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় বিভাগীয় মামলা চলছে। নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন ৪৮ জন চিকিৎসক। তবে এ হাসপাতালে অপারেশন, অ্যানেস্থেশিয়া, প্যাথলজি, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৩০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২৭৬ জন। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের ৯৩ জন জনবল দায়িত্ব পালন করছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও বিদ্যমান সেবা সচল রাখাই হাসপাতালটির বড় চ্যালেঞ্জ।
কটিয়াদীঃ উন্নত অবকাঠামো তৈরি হলেও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয় ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর। ২০২৪ সালের মে মাসে নির্মাণকাজ শেষে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সিভিল সার্জনের অনুমোদন নিয়ে নতুন ভবনের দুটি তলা ব্যবহার শুরু হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না বাড়ায় এখনো মূলত ৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে কার্যক্রম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৩৪টি। এর মধ্যে কর্মরত ১৪ জনের মধ্যে তিনজন অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকায় সরাসরি দায়িত্ব পালন করছেন ১১ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অস্ত্রোপচার। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার তালাবদ্ধ। গাইনি, সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ না থাকায় সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় সেবা বন্ধ। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নিয়মিত পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রোগীদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
হোসেনপুর: ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১১০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৩৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২৪ জন। তাঁদের মধ্যে আটজন অন্যত্র প্রেষণে থাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন ১৬ জন। সিজারিয়ানসহ ছোট-বড় অস্ত্রোপচার হয়। প্যাথলজি ও আলট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় এক্স-রে বন্ধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৬০টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১১৮ জন, আউটসোর্সিং জনবল ১২ জন।
পাকুন্দিয়া: ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৩৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৬ জন, নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন ১২ জন। চারজন সংযুক্তিতে রয়েছেন। মাইনর অপারেশন হলেও গাইনি কনসালট্যান্ট না থাকায় সিজারিয়ান বন্ধ। অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক থাকলেও প্যাথলজিস্ট নেই। প্যাথলজি, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম সেবা বিভিন্ন জনবল ও ব্যবস্থাপনায় চলছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ২৩২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৮৭ জন, আউটসোর্সিং জনবল ১৩ জন।
করিমগঞ্জ: ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৪৫টি পদের বিপরীতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন ১৭ জন। শুধু মাইনর অপারেশন হয়। অ্যানেস্থেশিয়া কনসালট্যান্টের পদ শূন্য। প্যাথলজি ও আলট্রাসনোগ্রাম চালু থাকলেও প্যাথলজিস্ট না থাকায় এবং রেডিওগ্রাফারের অভাবে এক্স-রে সেবা বন্ধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ২২২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৬৪ জন, আউটসোর্সিং জনবল চারজন।
তাড়াইল: ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪৭ থেকে ৪৮ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৩৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৬ জন, নিয়মিত থাকেন ১২ জন। শুধু মাইনর অপারেশন হয়। গাইনি জুনিয়র কনসালট্যান্ট সংযুক্তিতে রয়েছেন এবং সার্জারির জুনিয়র কনসালট্যান্ট দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। প্যাথলজি চালু থাকলেও প্যাথলজিস্ট নেই। এক্স-রে মেশিন নষ্ট এবং রেডিওগ্রাফার না থাকায় সেবা বন্ধ, আলট্রাসনোগ্রাম চালু রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৬০টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১০৭ জন, আউটসোর্সিং জনবল ১৩ জন।
নিকলী: ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৫৫ থেকে ৬৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ২৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২২ জন। ছয়জন সংযুক্তিতে থাকায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় জনবল সংকট রয়েছে। মাইনর অপারেশন ও প্লাস্টার করা হলেও সিজারিয়ান বন্ধ। অ্যানেস্থেশিয়া কনসালট্যান্ট নিটোর, ঢাকায় সংযুক্তিতে রয়েছেন। প্যাথলজি ও আলট্রাসনোগ্রাম চালু থাকলেও এক্স-রে কক্ষ সংস্কারাধীন থাকায় সেবা বন্ধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৭৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১২২ জন, আউটসোর্সিং জনবল পাঁচজন।
ইটনা: ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৪৬ থেকে ৪৮ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৩৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৩ জন। শুধু মাইনর অপারেশন হয়। অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। প্যাথলজিস্ট না থাকায় জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আলট্রাসনোগ্রাম চালু থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় এক্স-রে বন্ধ। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৪৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৯২ জন; আউটসোর্সিং জনবল ২০ জন।
মিঠামইন: ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন, কখনো ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৩১টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৩ জন। সিজারিয়ান, প্লাস্টার ও মাইনর অপারেশন নিয়মিত হয়। অ্যানেস্থেশিয়া কনসালট্যান্ট কর্মরত রয়েছেন। প্যাথলজি ও এক্স-রে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় চালু থাকলেও ল্যাব ও রেডিওলজি টেকনোলজিস্টের পদ শূন্য।
অষ্টগ্রাম: ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৫ জন, নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন ১৩ জন। কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার হয় না। প্যাথলজি ও এক্স-রে চালু থাকলেও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের প্রিন্টার ও ইউপিএস নষ্ট। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১০৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৬৫ জন; আউটসোর্সিং জনবল ১৬ জন।
বাজিতপুর: জেলার তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর একটি বাজিতপুর। ৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসকের ১৪টি পদই পূরণ রয়েছে। সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার নিয়মিত হয়। অ্যানেস্থেশিয়া, প্যাথলজি, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১১৩ জন, আউটসোর্সিং জনবল সাতজন।
ভৈরব: বর্তমানে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিদিন ৬৫ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ৪৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২৭ জন, পাঁচজন প্রেষণে রয়েছেন। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারসহ প্যাথলজি, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৮০ জন, আউটসোর্সিং জনবল ১৫ জন।
কুলিয়ারচর: ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসকের ২৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৭ জন এবং সবাই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অস্ত্রোপচার হয়। অ্যানেস্থেশিয়া কনসালট্যান্ট সপ্তাহে দুই দিন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করেন। প্যাথলজি, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম চালু রয়েছে। রেডিওগ্রাফারের পদ শূন্য থাকলেও স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় এক্স-রে করা হচ্ছে। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে কর্মরত ১০৫ জন, আউটসোর্সিং জনবল দুজন।
হাওরাঞ্চলের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবকাঠামো থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মো. মহিবুল্লাহ বলেন, হাওরাঞ্চলের এ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও মাইনর অপারেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। অপারেশন থিয়েটারও আছে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে সিজারিয়ান করা যায় না। আবাসন সমস্যার কারণে চিকিৎসকেরা সেখানে থাকতে চান না বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীর হাসান বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও নান্দাইলের একাংশের রোগীরাও হোসেনপুরে আসেন। ফলে ৫০ শয্যার হাসপাতালে গড়ে ১০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা গেলে আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আক্তার বলেন, শুধু চিকিৎসক নয়, অন্যান্য জনবলেও ঘাটতি রয়েছে। ওয়ার্ডবয়, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটসহ হাসপাতালের সামগ্রিক জনবল ঘাটতি পূরণ করা গেলে সেবার মান বাড়বে।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে ২টি উপজেলায় ২ জন চিকিৎসক নিয়োগহয়েছে। তবে এখনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্যান্য পদে শূন্যতা রয়েছে। এসব পদ পূরণে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




