হিন্দু – মুসলিম ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিত, আনন্দ -উচ্ছ্বাস ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে গীরেন পাগলার মেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্ম- বর্নের ভেদাভেদ ভুলে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে এ মেলা। মেলা ঘিরে স্হানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশে পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছুটে এসেছেন অসংখ্য দর্শনার্থী ও ভক্ত – অনুরাগী।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার শিমুলচালা গ্রামে সম্প্রীতি, ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে তিন দিন ব্যাপী পাগল নাথের মেলায় হিন্দু – মুসলিম সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশ গ্রহণে মেলাটি সম্প্রীতির বন্ধনে পরিনত হয়।
গীরেন পাগলের মেলায় হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ। সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এ মেলাকে দিয়েছে ভিন্নমাএা। একে অপরের অপরের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিরায়ত চিএ। সব মিলে গীরেন পাগলার মেলা পরিনত হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসবে।
হিন্দুদের কীর্তন, মুসলমানদের ইসলামিক গান, বাউল গান সহ বিভিন্ন গানে প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রবিবার গীরেন পাগলার মেলা শুরু হয়েছে বুধবার সকালে মেলা শেষ।
গীরেন পাগলের মেলায় ধর্ম – বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভক্তের জন্য প্রসাদের ব্যবস্হা করা হয়েছে। দুর দূরান্ত থেকে আসা সকল ধর্মের ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আনন্দের সাথে প্রসাদ গ্রহণ করেন। মেলার সার্বিক আয়োজন, ব্যবস্হাপনা, অতিথি আপ্যায়ন ও প্রসাদ বিতরনের দায়িত্ব পালন করেন ভক্তরা। ভক্তদের নিজস্ব উদ্যেগ, সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাশ্রমে সম্পন্ন হয় মেলার প্রতিটি আয়োজন। এখানে হিন্দু – মুসলিম কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই মিলেমিশে এ মেলার আয়োজন করেন।
গীরেন পাগলার মেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিততে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মেলায় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে ভক্ত, দর্শনার্থী ও স্হানীয় মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন। মেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের স্ব:স্ফুর্ত উপস্থিতি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও মেলার প্রাঙ্গণে সবাইকে এক সাথে দেখা যায়।
মেলায় শিশু – কিশোর, নারী- পুরুষ ও বয়ষ্কদের উপস্থিতে উৎসব মুখর হয়ে ওঠেছে। মেলায় বসেছে বিভিন্ন ধরনের দোকান। মেলা প্রাঙ্গণে বাহারি পন্যের পসরা নিয়ে বসেছেন স্হানীয় ও দূর দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। গ্রামীন ঐতিহ্যের নানা সামগ্রী ও শিশুদের বিনোদনের আয়োজন বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে।
স্হানীয়দের কাছে গীরেন পাগলার মেলা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতীক। প্রতি বছর এ মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দূঢ হয়। তিন দিন ব্যাপী এ মেলা শেষ হলেও মানুষের মনে রেখে যায় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনের বার্তা। গীরেন পাগলার মেলা ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে।




