রাজশাহীর পুঠিয়ার পচামাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের ৮০ লাখ টাকার কাজ ৫ বছর ধরে চলছে একটি মাত্র মিস্ত্রি দিয়েই

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পঁচামাড়িয়া ডিগ্রি কলেজে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণে চলছে চরম অনিয়ম। ২০২২ সালে কাজ শুরু হলেও ৫ বছরেও শেষ হয়নি একতলা ভবনের কাজ। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কচ্ছপ গতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার।   সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ভবনের কাজ করছেন মাত্র ১ জন মিস্ত্রি ও ১ জন হেলপার। তাদের কচ্ছপ গতির কারণেই ৫ বছরে ভবনের কাজ শেষ হয়নি। কর্মরত মিস্ত্রি নিজেই দাবি করেন তার ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে।   ভবনে ব্যবহার করা ইটগুলো নিম্নমানের। অধিকাংশ ইটের রং অস্বাভাবিক ও ভঙ্গুর। ছাদের উপরে একটি পিলারে অতিরিক্ত বালু-সিমেন্ট গলিয়ে রড ঢেকে দেওয়া হলেও খসে পড়ছে সেই আস্তরণ। ভবিষ্যতে ঝুঁকির মুখে পড়বে শত শত শিক্ষার্থী।   এ বিষয়ে কলেজের একাধিক শিক্ষক বলেন, এসব সামগ্রীর মধ্যে অধিকাংশই এক নম্বর মানের নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “এসব ইট দিয়ে গোয়ালঘরও টেকে না। প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে যায়।”   এসব অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ.ই টেকনো ফার্ম এর স্বত্বাধিকারী হিটু বলেন, “আমি লস দিয়ে কাজ করছি। অফিসের সমস্যার কারণে ফান্ড দিতে পারেনি, তাই সময় বেশি লেগেছে।” নিম্নমানের ইটের বিষয়ে তিনি বলেন, যেখানে নিম্নমানের ইট দেওয়া হয়েছে, সেখানে ভালো করে ঢালাই দেওয়া হয়েছে।   পঁচামাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের সভাপতি আলিম উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, “কাজ আমাদের পছন্দ নয়, ঠিকাদার তার নিজের ইচ্ছামতো করছে।”   কলেজের অধ্যক্ষ বিষ্ণু পদ সাহা বলেন, “কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে তারা কাজ বন্ধ করে চলে যায়।”   এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলার দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশলী মো. গোলাম জিলানী বলেন, “ঠিকাদার কাজ করতেই চায় না।”   রাজশাহী জেলা সহকারী শিক্ষা প্রকৌশলী (সিভিল)-৩ মো. হারুন উর রশিদ বলেন, “ওখানে এত সমস্যা হয়ে আছে, আমাকে জানায়নি। আমি বিষয়টি দেখে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top