যশোরে মুড়লির মোড়ে গ্যারেজে কথা কাটাকাটির জেরে মারধর, সালিশে মীমাংসা

যশোরের মুড়লির মোড় এলাকায় গাড়িতে গ্রিস করানোকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে মারধরের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরে তা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মো. আবুল খায়েরের ড্রাইভার মোড় বশির গাড়ি গ্যারেজে গ্রিস করাতে নিয়ে যান। সেখানে কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে মো. সোহাগ ইসলাম হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বশিরকে ঘুষি মারেন। এতে বশিরের নাক ফেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং তার বাম চোখেও আঘাত লাগে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরের একপর্যায়ে সোহাগ লাঠি নিয়ে মো. আবুল খায়েরকে ধাওয়া করেন এবং ‘দাঁড়া তোকে আজ মেরেই ফেলবো, তোকে গুলি করবো’ বলে প্রকাশ্য হুমকি দিতে থাকেন। এ সময় পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য ড্রাইভার, হেলপার ও শ্রমিকরা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত সোহাগকে আটক করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে গণপিটুনি দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপস্থিত সবাই মিলে অভিযুক্ত সোহাগকে যশোর জেলা মিনি-ট্রাক সমিতির শাখা অফিসে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠকে বিষয়টি সুরাহা করা হয়।

উক্ত সালিশে উপস্থিত ছিলেন—যশোর মিনি-ট্রাক স্ট্যান্ড পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আহ্বায়ক রুহুল আমিন ডাবলুসেক্রেটারি ও সদস্য সচিব মাহমুদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাজিব, ২২৭ শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম লবিন, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান মিন্টু, কোষাধ্যক্ষ মো. কামাল হোসেন, শ্রমিক নেতা এরশাদ আলী, মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গো গোলাম মোস্তফা ও সভাপতি মো. জাফরসহ অন্যান্য সাধারণ শ্রমিকবৃন্দ।

অভিযুক্তের জরিমানা ও মুচলেকা: সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত সোহাগের মাকে ডেকে আনা হয়। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে আহত ড্রাইভার বশিরের চিকিৎসা বাবদ সোহাগকে ১০০০/- (এক হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড আর করবেন না মর্মে সোহাগ সবার সমক্ষ্যে লিখিত ও মৌখিক অঙ্গীকার করেন এবং ভবিষ্যতে পুনরায় এ ধরনের অপরাধ করলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন বলে মুচলেকা দেন।

এদিকে সালিশে উপস্থিত লোকজন সোহাগের কাছে ‘গুলি করার হুমকির’ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, রাগের মাথায় তিনি ওই কথা বলে ফেলেন এবং তার কাছে কোনো অস্ত্র বা গুলি করার মতো কিছুই ছিল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও সোহাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মো. সোহাগ ইসলাম যশোর সদর উপজেলার মুড়লি খাঁপাড়ার মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক না পেয়ে অপেক্ষায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ২ নার্সের বদলির নির্দেশ

 মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা  ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শনে আসেন

Scroll to Top