কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার পর জাল ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও বিমান টিকিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের মোশারফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। টাকা ফেরত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শুক্রবার ক্ষেতলাল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের বিনাই পাঁচখুপি গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মোশারফ হোসেন বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে মালয়েশিয়া প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষেতলাল থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ছানোয়ার হোসেন উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগে নারায়ণগঞ্জে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে মোশারফ হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে মোশারফ তাকে কানাডায় পাঠানোর কথা বলে ভালো ভিসা, কাজের সুযোগ ও আকর্ষণীয় বেতনের আশ্বাস দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে প্রায় ১৪ মাস আগে কানাডায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে মোশারফ হোসেনকে মোট ২ লাখ ১২ হাজার টাকা দেন ছানোয়ার।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই টাকার মধ্যে মোশারফ হোসেনের ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা পাঠানো হয় এবং বাকি ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা নগদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মোশারফ হোসেন ছানোয়ারকে কানাডার ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও বিমান টিকিট দেন। তবে এসব কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে সেগুলো জাল ও ভুয়া বলে জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরপর বিদেশ যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে ছানোয়ারের কাছে আরও ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং সাত দিনের মধ্যে ওই টাকা না দিলে আগের টাকা ফেরত দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মোশারফ হোসেন আরও অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তাদের টাকা ফেরত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিনাই পাঁচখুপি গ্রামে মোশারফ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকে মোশারফ এলাকায় নেই। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোশারফ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, “বিদেশে লোক পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




