জাল সনদে ১৩ বছর চাকরির অভিযোগ পাকশী রেলওয়ে কলেজের প্রভাষকের বিরুদ্ধে

পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী রেলওয়ে ডিগ্রি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁর দাখিল করা শিক্ষক নিবন্ধন সনদকে জাল ও ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাউশির সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম ২০০৮ সালের চতুর্থ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার একটি সনদ ব্যবহার করেছেন। ওই সনদের রোল নম্বর ২২০১০৩৮০। যাচাই-বাছাইয়ের পর সনদটি জাল বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য ব্যক্তির নিবন্ধন সনদ জাল করে নিজের নামে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ওই সনদ ব্যবহার করে শরিফুল ইসলাম পাকশী রেলওয়ে ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক পদে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি এমপিওভুক্ত হন। এরপর থেকে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন বলে মাউশির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাউশির কলেজ শাখা-৩ থেকে জারি করা অফিস আদেশে দেশের ৪৭১ জন শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকার ১৬৩ নম্বর ক্রমিকে মো. শরিফুল ইসলামের নাম রয়েছে।
মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্ধারিত শুনানিতে পাকশী রেলওয়ে ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাকশী রেলওয়ে ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, মাউশির নোটিশ তিনি পেয়েছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বক্তব্য দিতে পারেননি।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাউশির তদন্ত ও শুনানির পরই অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top